অপঠিত চিঠি

প্রিয় রাফি,
কেমন আছিস তুই? কথাটা লিখতে গিয়ে কলম থামিয়ে রাখলাম অনেকক্ষণ। শেষ কবে তোকে এভাবে জিজ্ঞেস করেছি, মনে করতে পারলাম না। ইনবক্সে তোর নামটা অনেক নিচে নেমে গেছে, স্ক্রল করেও প্রথমে খুঁজে পাইনি।
গতকাল বিকেলে কলেজ মাঠের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। বৃষ্টি থেমেছে তখন, মাঠের ঘাস ভেজা, এক কোণে ছেলেরা ফুটবল খেলছে, জুতোর ফাঁকে কাদা লেগে আছে। হঠাৎ তোর হাসির শব্দটা মনে পড়ল। মনে আছে, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আমরা স্কুলের পেছনের চায়ের দোকানে বসতাম? এক কাপ চা দুজনে ভাগ করে খেতাম, মাঝে মাঝে একটা সিঙ্গারা নিয়ে কাড়াকাড়ি হতো। দোকানদার চাচা বলতেন, তোমাদের আড্ডা শেষ হইলে আমার দোকান বন্ধ। টিনের চালের নিচে বসে বৃষ্টি দেখতাম, বাড়ি ফিরতে দেরি হতো প্রতিদিনই। বেঞ্চটা এখনও আছে, রঙটা বদলে গেছে শুধু, পাশের বটগাছটা আরও ঝাঁকড়া হয়েছে।
এরপর দিনগুলো কীভাবে যেন সরে গেল। তুই একদিকে, আমি আরেকদিকে। কারও কোনো অভিযোগ ছিল না, ঝগড়াও হয়নি। শুধু ফোন করব করব করে করা হয়নি, দেখা হবে হবে করে বছর ঘুরে গেছে। এই নীরবতাটা আমার কাছেই ভারী লাগে মাঝে মাঝে। হয়তো তোর কাছেও লাগে, হয়তো লাগে না — জানি না। তোর মা কেমন আছেন, সেই খবরটাও নেওয়া হয় না অনেকদিন।
আজ হঠাৎ মনে হলো, একটা চিঠি লিখি। বড় কোনো কথা বলার জন্য না। শুধু জানতে ইচ্ছে করে, তুই এখন কোথায় আছিস, কেমন আছিস, আগের মতো হেসে উঠিস কি না।
যদি সময় হয়, দুটো লাইন লিখিস। আর যদি কখনো এদিকে আসিস, ওই চায়ের দোকানটায় একবার বসব। আমি এক কাপ চা অর্ডার দিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করব, আগের মতোই ভাগ করে খাব বলে।
ইতি,
তোর বন্ধু


