‘বন্ধু’ শব্দটা আকারে নিতান্তই ছোট, কিন্তু এর গভীরতা হয়তো কোনো এক অদেখা মহাসাগরের চেয়েও বেশি।
বন্ধু মানে সারাদিন একসাথে ঘুরে বেড়ানো নয়, বন্ধু মানে কেবলই হাসিখুশি আর আড্ডার সঙ্গী হওয়া নয়। বন্ধু হলো সেই মানুষটা, যার পাশে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিশ্চুপ থাকলেও বুকের ভেতর কোনো অস্বস্তি কাজ করে না। নীরবতাও যেখানে দুজনের মাঝে একটা নিজস্ব ভাষা পেয়ে যায়।
হাজারো পরিচিত মুখের ভিড়ে আমরা রোজ হাঁটি। কত মানুষের সাথে রোজ কথা হয়, কত হাসিমুখের বিনিময় হয়! কিন্তু দিনশেষে যখন সমস্ত ক্লান্তি এসে ভর করে, যখন নিজের ভেতরে জমিয়ে রাখা কষ্টগুলো পাহাড়ের মতো ভারী মনে হয়— তখন যার সামনে দাঁড়িয়ে কোনো ভনিতা ছাড়া, কোনো দ্বিধা ছাড়া কেঁদে ফেলা যায়, সে-ই বন্ধু। যার কাছে নিজের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করতে কোনো সংকোচ হয় না, যে বিচার করার আগেই নীরবে পাশে বসে থাকে।
জীবনের কঠিন হিসাব-নিকাশে যখন আমরা ভুল করে বসি, যখন চারপাশের চেনা জগৎটাও অচেনা মনে হতে থাকে, তখন যে হাতটা শক্ত করে কাঁধ চেপে ধরে বলে— ‘‘ভয় পাস না, আমি তো আছি’’— সেটাই বন্ধুত্বের হাত।
বন্ধু মানে এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়। এমন একটা জায়গা, যেখানে কোনো মুখোশ পরতে হয় না, কোনো অভিনয় করতে হয় না। যেখানে পৃথিবীর সমস্ত জটিলতা ভুলে একদম নির্ভেজাল ‘আমি’ হয়ে বেঁচে থাকা যায়।
